ইরাকে অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনের মুক্তি নিশ্চিত
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে এক সপ্তাহ আগে অপহৃত মার্কিন নারী সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই মুক্তির খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন, যা গতকাল ৭ এপ্রিল একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে প্রথম আলোচনায় আসে।
কাতাইব হিজবুল্লাহর শর্তে মুক্তি
ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া দল কাতাইব হিজবুল্লাহ গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এখনই ইরাক ছাড়ার শর্তে শেলি কিটলসনকে মুক্তি দিয়েছে। এই দলের ঘনিষ্ঠ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আউটলেটে প্রকাশিত ভিডিওতে কিটলসনকে অজানা একটি স্থান থেকে কথা বলতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
৪৯ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কিটলসন গত ৩১ মার্চ অপহৃত হন। অপহরণের সময় ইরাক সরকার জানিয়েছিল যে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের ধাওয়া করেছিল, যার ফলে একটি গাড়ি উল্টে যায় এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, 'এই মুক্তি মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, তা তাঁরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন।' তিনি ইরাকি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন যারা মুক্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরাক থেকে কিটলসনের নিরাপদ প্রস্থানে সহায়তা করতে কাজ করছে।
গত সপ্তাহে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি বিদেশিদের অপহরণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
শেলি কিটলসনের পেশাগত পরিচয়
শেলি কিটলসন একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত, যিনি রোমে বসবাস করেন কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন করেন। তিনি আল-মনিটরের মতো মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি করেন। অপহরণের পর আল-মনিটরের একটি প্রতিবেদনে তাঁর পরিচয় ও কাজের বিবরণ দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ইরাকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। মুক্তির পর কিটলসনের স্বাস্থ্য ও অবস্থা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে আশা করা হচ্ছে যে তিনি শীঘ্রই নিরাপদে দেশে ফিরে যাবেন।



