যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে হামলা অব্যাহত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, বুধবার সকালে ইসরায়েল ইরানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বার্তাসংস্থা এএফপি'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলও রাজি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির কথা জানালেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।
বিভিন্ন দেশে হামলা ও সতর্কতা
বিবিসির সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, জেরুজালেমেও হামলার শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের হামলার সতর্কতা জানানো হয়েছে। এদিকে বাহরাইনেও হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তার দেশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা প্রতিহত করছে। সৌদি আরবের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় হামলার সতর্ক বার্তা বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতভর ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলিকে 'সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে' চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিবে।
এই যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।



