ট্রাম্প নীতিগতভাবে মেনে নিলেন ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি বুধবার ভোরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। এই প্রস্তাবটি একটি বড় চুক্তির জন্য আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।
প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো
আইআরআইবি প্রস্তাবের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা প্রদান
- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা
- ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি
- যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ইরানবিরোধী প্রস্তাব বাতিল
- ক্ষতিপূরণ প্রদান
- এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধ বাহিনী প্রত্যাহার
- লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করা
কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে যে এই আলোচনার অর্থ যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ইরানের শর্তগুলো পূরণ এবং বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত হলে তবেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
আলোচনার প্রক্রিয়া ও সময়সূচি
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই আলোচনা দুই সপ্তাহ চলবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষ রাজি হলে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ট্রাম্পের অবস্থান ও মন্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছিলেন যে ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে। ইরানের প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য কাজ চলার মতো ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে cautious optimism সৃষ্টি করেছে।
এই উন্নয়নকে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে আলোচনার পথে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হবে।



