মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করেছেন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত ভয়াবহ হামলা ও বোমা বর্ষণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের অনুরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি এই নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
যুদ্ধবিরতির শর্ত ও প্রক্রিয়া
ট্রাম্পের এই ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী ১৪ দিন উভয় পক্ষ একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি পালন করবে। তবে এই স্থগিতাদেশের প্রধান শর্ত হলো—ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে ইরানের ওপর যে বিধ্বংসী শক্তি প্রয়োগ করার কথা ছিল, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধে তা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তাদের অধিকাংশ সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির পথে অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ১০ দফার প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে, যেটিকে আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
দুই দেশের মধ্যে অতীতে অমিল থাকা প্রায় সব পয়েন্টে সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘পরবর্তী দুই সপ্তাহ এই চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর করার জন্য সময় দেবে।’ ট্রাম্প এই অর্জনকে নিজের দেশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবেও বড় একটি সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক দশকের পুরনো এক সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বিশ্ব।
ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে গত ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে।
এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা আরও জোরদার হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির দিকে নেতৃত্ব দিতে পারে।



