ট্রাম্পের ইরান হুমকি: 'ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডে' হামলা নাকি আলোচনার পথ?
ট্রাম্পের ইরান হুমকি: হামলা নাকি আলোচনা?

ট্রাম্পের ইরান হুমকি: 'ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডে' হামলা নাকি আলোচনার পথ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নাটকীয় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। ইরানকে আক্ষরিক অর্থেই মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার চরম হুমকি নাকি আলোচনার টেবিলে আরও কিছুটা সময়—এই দুটি পথের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন, তা এখন সারা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার মার্কিন সময় রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) সময়সীমা পার হওয়ার পর তার সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

হামলার হুমকি ও ভয়াবহ পরিণতি

ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে মধ্যরাতের মধ্যেই ইরানের প্রতিটি সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি সরাসরি ভোগ করতে হবে সাধারণ ইরানিদের, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক বিপজ্জনক প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যদি দেখেন কোনও চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবে তিনি হয়তো হামলা স্থগিত করবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত কেবল তিনি একাই নেবেন।’ প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা অবশ্য এই দফায় সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কিছুটা ‘সন্দিহান’ রয়েছেন।

ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও 'ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডে'

প্রশাসনের ছয়জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প এখন তার প্রশাসনের সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে থাকা ব্যক্তি। একজন কর্মকর্তা তাকে ‘পাগলা কুকুর’ এবং ‘রক্তপিপাসু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকেও এখন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ‘শান্তিবাদী’ মনে হচ্ছে। ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের কাছে এই সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডে’ বা অবকাঠামো দিবস। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিমান হামলার যাবতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প কেবল নির্দেশ দিলেই এটি কার্যকর হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনা ও মধ্যস্থতার চেষ্টা

অন্যদিকে, পাকিস্তান, মিসর এবং তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের পক্ষে আলোচনায় রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তারা চাইছেন সম্ভব হলে এখনই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে। শান্তি প্রস্তাবের জবাবে সোমবার ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউস একে ‘সর্বোচ্চ দাবি’ মনে করলেও আলোচনার একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। তবে ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতি নিয়ে ট্রাম্প কিছুটা বিরক্ত। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইঙ্গিত দেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইরানি নেতারা দক্ষভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা শিশুদের মাধ্যমে হাতে লেখা চিরকুট পাঠিয়ে যোগাযোগ করছেন। সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস লিখেছে, ট্রাম্প মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির যোগাযোগের পদ্ধতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

বিরোধী চাপ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃবৃন্দ এবং সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পকে কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাদের দাবি, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার মতো কঠিন শর্তগুলো আগে মানতে হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যেই আস্ত একটি দেশ শেষ করে দিতে পারি। আগামীকাল রাতের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস হয়ে যাবে, প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বলবে এবং আর কখনও ব্যবহারের উপযোগী থাকবে না। তবে আমরা এমনটা চাই না।’ এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, হামলা একটি শেষ উপায় হিসেবে রয়ে গেছে, কিন্তু আলোচনার দরজা এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। বিশ্ব এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।