মার্কিন যুদ্ধের হুমকিতে ইরানে 'সভ্যতা ধ্বংসের' আশঙ্কা
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানকে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, দেশটি যদি মার্কিন যুদ্ধের দাবিগুলো মেনে না নেয়, তাহলে 'সম্পূর্ণ একটি সভ্যতা ধ্বংস' হয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এই মন্তব্য করে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন।
ট্রাম্পের চূড়ান্ত আল্টিমেটাম ও হুমকি
ট্রাম্প লিখেছেন, 'একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে, যা কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না যে এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত ঘটবে।' যদিও তিনি বিস্তারিত বিবরণ দেননি, তবে এর আগেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোকে 'প্রস্তর যুগে' ফিরিয়ে দিতে পারে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা
ট্রাম্প ইরানের জন্য একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছেন, যা মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, যা একটি সংকীর্ণ ও কৌশলগত জলপথ হিসেবে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। সোমবার তিনি বলেছিলেন যে, বর্তমানে প্রচলিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি অপর্যাপ্ত।
ইরানের জবাব ও অবস্থান
ইরান মার্কিন চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে, এবং রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে যে কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি চাইছে। ট্রাম্প তার পোস্টে শেষ মুহূর্তের চুক্তির সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন, তিনি লিখেছেন, 'এখন যেহেতু আমাদের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, যেখানে ভিন্ন, বুদ্ধিমান এবং কম মৌলবাদী মনোভাব প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো কিছু বিপ্লবীভাবে চমৎকার ঘটনা ঘটতে পারে, কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব।'
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক হামলা
ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন যে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন, ডিসি-তে সন্ধ্যার পর থেকে মার্কিন বাহিনী 'ইরানের প্রতিটি সেতু' ধ্বংস করবে এবং দেশটির 'প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র' অকার্যকর করে দেবে—এমন একটি পদক্ষেপ যা অনেক বিশেষজ্ঞের মতে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অবিরাম ইরানে বোমাবর্ষণ করছে, এবং মঙ্গলবার, ট্রাম্পের 'সভ্যতা ধ্বংস' হুমকির আগেই, তেহরান জানিয়েছে যে খার্গ দ্বীপে তার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল হামলার শিকার হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। ট্রাম্পের এই হুমকি ইরান-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।



