ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাইফায় ভবন ধ্বংস, চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত
ইসরায়েলের হাইফা শহরে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেশটির উদ্ধারকারী দল আজ সোমবার নিশ্চিত করেছে। গত রোববার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলার পর আজ ভোরে একই এলাকায় নতুন করে একটি গুচ্ছবোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যাতে চারজন সামান্য আহত হয়েছেন এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উদ্ধারকাজে দীর্ঘ সময় ও বয়স্কদের মৃত্যু
ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানায়, সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ডের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের বয়স আশির বেশি ছিল এবং একজন নারী ও আরেকজন পুরুষ। কয়েক ঘণ্টা পর আরও একজনের মরদেহ পাওয়া যায়, যার বয়স ৪০-এর কোটায়। এর কিছুক্ষণ পর ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়।
মধ্যাঞ্চলে গুচ্ছবোমা হামলা ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি
আজ সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান গুচ্ছবোমা ছুড়েছে, যা বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১৫ থেকে ২০টি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রেকর্ড করা হয়েছে। চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডাম (এমডিএ) জানায়, পেটাহ তিকভা এলাকায় একটি গুচ্ছবোমার গোলাবারুদ ৩৪ বছর বয়সী এক নারীর কাছে এসে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তেল আবিবে কাচের টুকরার আঘাতে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।
সতর্কতা ও পূর্ববর্তী হামলার প্রভাব
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড বারবার সতর্ক করে বলেছে, হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার সময় রাস্তায় থাকলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে বা মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা রক্ষা করতে হবে। রোববার রাতেও দুই দফায় মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আইডিএফের তথ্যমতে, প্রথম দফা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে, তবে দ্বিতীয় দফায় গুচ্ছবোমা উন্মুক্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ইসরায়েলের নানা নিশানা লক্ষ্য করে ৫০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১৪টি শক্তিশালী প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্রে শত শত কেজি বিস্ফোরক ছিল। এ ছাড়া ৩০টির বেশি ঘটনায় জনবহুল এলাকায় গুচ্ছবোমা এসে পড়েছে, ফলে দুই শতাধিক আলাদা স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, পাশাপাশি পশ্চিম তীরে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।



