ট্রাম্পের হুমকি: 'হরমুজ খুলে দাও, নয়তো নরক নামবে ইরানে'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে গালিগালাজ করে আক্রমণাত্মক ভাষায় পোস্ট দিয়েছেন। নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের পোস্টে চরম ক্ষোভ
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, 'মঙ্গলবার হবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আর সেতু (হামলার) দিবস, সব মিলিয়ে একাকার। এর আগে এমন কিছু আর কখনো দেখা যায়নি!!! “ওপেন দ্য ফাকিং স্ট্রেইট (প্রণালি খুলে দে), ইউ ক্রেজি বাস্টার্ডস”, নয়তো তোমরা নরকের মধ্যে বাস করবে—শুধু দেখে যাও! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।'
ইরান পিছু হটার কোনো লক্ষ্মণ না দেখানো এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় ট্রাম্প এর আগেই হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, সোমবারের মধ্যে এটি খুলে না দিলে তিনি ইরানে 'পুরো নরক' নামিয়ে আনবেন।
মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ
মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধের অগ্রগতির দাবি করলে তিনি এর আগে বেশ কয়েকবার সময়সীমা বাড়ালেও এবার তার ভাষায় চরম ক্ষোভ ফুটে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযান
এর আগে আজ তিনি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন বিশেষ বাহিনী ইরানের সীমানার ভেতর থেকে তাদের এক নিখোঁজ সেনাসদস্যকে উদ্ধার করেছে। গত শুক্রবার একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে ওই কর্মকর্তা নিখোঁজ ছিলেন। ইরান ওই 'শত্রু পাইলটকে' ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
উদ্ধারকৃত কর্মকর্তার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ওই কর্মকর্তা একজন কর্নেল এবং তিনি বর্তমানে আহত হলেও আশঙ্কামুক্ত। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, 'আমরা ইরানের পাহাড়ের গভীর থেকে গুরুতর আহত এবং অত্যন্ত সাহসী এফ-১৫ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছি। ইরানি সামরিক বাহিনী বিশাল সংখ্যায় হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছিল এবং খুব কাছে চলে এসেছিল। তিনি অত্যন্ত সম্মানিত একজন কর্নেল। মানুষ এবং সরঞ্জামের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এ ধরনের অভিযান সচরাচর চালানো হয় না।'
অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, 'এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে না! প্রথম দফার পর এটি ছিল দ্বিতীয় অভিযান, যেখানে আমরা দিনের আলোতে সাত ঘণ্টা ইরানের আকাশে কাটিয়ে পাইলটকে উদ্ধার করেছি, যা ছিল অস্বাভাবিক। সবার সাহসিকতা এবং মেধার এক অসাধারণ প্রদর্শনী! আমি সোমবার দুপুর ১টায় ওভাল অফিসে সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করব। আমাদের মহান সামরিক যোদ্ধাদের ওপর স্রষ্টার আশীর্বাদ বর্ষিত হোক!'
এই ঘটনাটি ইরান-মার্কিন উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি এবং সামরিক অভিযান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।



