ইরানের পাল্টা আক্রমণে মার্কিন সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইসফাহানে ইরানি বাহিনীর অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পূর্বের প্রতিবেদন ও বর্ধিত ক্ষয়ক্ষতি
এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় অন্তত একটি সি-১৩০ বিমান ধ্বংস হয়েছিল। তবে আইআরজিসির সর্বশেষ বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের ব্যবহৃত একাধিক আকাশযান ইরানি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ ইসফাহানের এই সামরিক সংঘাতের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানি বাহিনীর দাবি সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব আকাশযান ধ্বংসের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই নীরবতা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে পাইলট উদ্ধার অভিযানও অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। আইআরজিসির এই দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে এটি মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই সংঘাতের পটভূমিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন করে উসকে দিয়েছে। দক্ষিণ ইসফাহান অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সামরিক সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন পর্যন্ত, আলজাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, কিন্তু স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণের জন্য আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।



