ইরান একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যা নিখোঁজ মার্কিন সেনার সন্ধানে নিয়োজিত ছিল বলে জানানো হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এই খবর প্রকাশ করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিমান ভূপাতিতের বিস্তারিত দাবি
ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীর ‘সি-১৩০’ শ্রেণির একটি পরিবহন বিমান। ইরানের পুলিশের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট ফারাজ রেঞ্জার্স এই অভিযান পরিচালনা করে বিমানটি ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বিমানটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ‘আগ্রাসনকারীদের’ জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিল।
ইরানের ব্যাখ্যা ও নিন্দা
ইরান এই ঘটনাকে তাদের সার্বভৌমত্ব ও পবিত্র ভূমি রক্ষার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে একে পবিত্র মাতৃভূমিতে অনুপ্রবেশকারী অপশক্তির সহায়তা হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই পদক্ষেপ তাদের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মার্কিন পক্ষের প্রতিক্রিয়া
এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, বিশেষ করে যখন নিখোঁজ সেনার সন্ধানে অভিযান চলমান ছিল।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
ওই এলাকায় নিখোঁজ মার্কিন সেনার সন্ধানে অভিযানের মাঝেই এই ভূপাতিত করার দাবি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এটি আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা বিদ্যমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিমানটি অপশক্তির সহায়তায় নিয়োজিত ছিল, যা ইরানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের এই অভিযানকে ন্যায্য ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন, যেহেতু মার্কিন পক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।



