ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট হত্যার চেষ্টার অভিযোগ, তাসনিমের দাবি
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলট হত্যার চেষ্টার অভিযোগ, তাসনিমের দাবি

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছে, যেখানে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করছে। আজ রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে, যা মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ৩৫তম দিনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভূপাতিত বিমান ও পাইলটদের অবস্থা

গত ৩ এপ্রিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী এফ-১৫ জেট যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। বিমানটিতে দুজন পাইলট ছিলেন, যাদের একজনকে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার করেছে বলে দাবি করলেও তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, এবং মার্কিন সেনারা তাকে খুঁজে বের করতে তৎপর। তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিখোঁজ পাইলটকে হত্যা করার পেছনে মার্কিনদের একটি গভীর ছক লুকিয়ে আছে।

সামরিক সূত্রের বক্তব্য

একটি সামরিক সূত্র তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে, দুই দিন আগে ইরানে ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে মার্কিন বাহিনী এখন সেসব স্থানে বোমাবর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে চাইছে, যেখানে তার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রটি উল্লেখ করেছে, আমেরিকানরা আজ রাতে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের আহমদ প্রদেশের কোহগিলুয়েহ শহরের কিছু এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে, কারণ তারা ধারণা করেছিল তাদের পাইলট ওই এলাকায় অবস্থান করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সূত্রটি আরও যোগ করেন, মার্কিনরা তাদের দ্বিতীয় ব্যক্তি—যাকে তারা ফ্লাইট ক্রু বলছে—তাকে খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং এই কারণে তারা বেশ কয়েকটি স্থানে বোমা মেরে তাকে মেরে ফেলতে চায়। তবে ওই ব্যক্তি বর্তমানে ইরানি বাহিনীর কবজায় আছে কিনা, সে বিষয়ে সূত্রটি কোনো মন্তব্য করেনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নিয়ে সন্দেহ

সামরিক সূত্রটি স্পষ্ট করে বলেছেন, আমেরিকানরা প্রথম পাইলট সম্পর্কেও সম্পূর্ণ সত্য বলছে না, যাকে তারা উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেছিল। এই ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটদের কাহিনী মার্কিনদের জন্য আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি হয়ে দাঁড়াবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তাসনিমের এই দাবি বিশ্ব মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।