যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় তেহরানে ধ্বংসস্তূপ, ট্রাম্পের হুমকি ও মার্কিন জনগণের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ সংঘটিত এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেলিভিশনে হাজির হয়ে দেশবাসীর কাছে ব্যাখ্যা দেন। তিনি ইরানের ওপর তীব্র বোমাবর্ষণের মাধ্যমে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জিত হবে।
মার্কিন জনগণের হতাশা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
রয়টার্স ও ইপসোসের সম্প্রতিক জরিপে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও নেতিবাচক মনোভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।
প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও হ্রাস পাবে এবং ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও অবনতি ঘটবে। জরিপে আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি মানুষ ইরানে মার্কিন স্থল সেনা পাঠানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এটি একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।
জ্বালানি বাজার ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ভাষণের পরদিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এই প্রবণতার কারণে, আগামী সপ্তাহে দেশটিতে খুচরা তেলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪.২৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪.৪৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ‘আরও বিধ্বংসী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হামলার হুমকি দিয়েছে। তেহরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সামর্থ্য প্রদর্শন করেছে, যা বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, মার্কিন জনগণের মধ্যে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।



