ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলা, আহত পাঁচজন
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা, পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা লক্ষ্য

ইরানের খুজেস্তানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলা, পেট্রোকেমিক্যাল সুবিধা লক্ষ্য

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল প্রদেশটির গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ভ্যালিওল্লাহ হায়াতির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার সকালে এই হামলা সংঘটিত হয়, যাতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে।

হামলার সময়ক্রম ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ

হায়াতির প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রথমে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এই প্রাথমিক বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মাত্র দুই মিনিট পর, অর্থাৎ সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে, মাহশাহ’র বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়।

এই হামলায় ফজর ১, ফজর ২, রেজাল এবং আমির কবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে বলে ডেপুটি গভর্নর নিশ্চিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হতাহতের ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু ও জরুরি ব্যবস্থা

হামলার ঘটনাপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হয় যখন বেলা ১১টার দিকে খোররামশাহরের শলামচেহ সীমান্ত বাণিজ্য টার্মিনালে আঘাত হানে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো। এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর যুদ্ধবিমানগুলো আবু আলী পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানে এবং পরবর্তীতে বন্দর-ই ইমাম খোমেনি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আংশিক ক্ষতি সাধন করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জরুরি কমান্ড কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই এলাকার সমস্ত কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, হামলাকবলিত স্থান থেকে নির্গত কোনো ক্ষতিকারক পদার্থ বর্তমানে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর জন্য সরাসরি হুমকি নয়।

বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

এখন পর্যন্ত মাহশাহর এবং বন্দর-ই ইমাম খোমেনি স্থাপনায় সংঘটিত হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই হামলা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই ঘটনাটি ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যকার চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পেট্রোকেমিক্যাল সুবিধাগুলোতে হামলা পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে কোনো তাৎক্ষণিক পরিবেশগত হুমকি নেই বলে দাবি করছে।