ইরানে স্কুল হামলায় ১৭৫ নিহত, মার্কিন হুমকিতে যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা
ইরানে স্কুল হামলায় ১৭৫ নিহত, মার্কিন হুমকিতে যুদ্ধাপরাধ আশঙ্কা

ইরানে স্কুল হামলায় ১৭৫ নিহত, মার্কিন হুমকিতে যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা

ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর উদ্ধারকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই ঘটনায় ইরানে নির্বিচার হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

মার্কিন বিশেষজ্ঞদের খোলাচিঠিতে যুদ্ধাপরাধের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা ট্রাম্পের ইরানকে প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকিকে ‘নিন্দনীয় ও ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলাকে শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞ যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি খোলাচিঠিতে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিশেষজ্ঞরা স্বাক্ষর করেছেন।

গত মাসে ট্রাম্পের ‘শুধু মজার জন্য’ ইরানে হামলা চালানোর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন এবং আসন্ন কোনো ইরানি হুমকির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেসামরিক স্থাপনায় হামলা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন

বিশেষজ্ঞদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘অন্য একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ শুধু তখনই অনুমোদন পায়, যখন তা প্রকৃত বা আসন্ন সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য করা হয় অথবা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নিয়ে করা হয়।’ তারা চারটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন: যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের বৈধতা, যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্য এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি লঙ্ঘন।

আইনবিশেষজ্ঞরা মিনাব শহরের স্কুল হামলার পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন হাসপাতাল, পানি পরিশোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ওপর আলোকপাত করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে যেসব হামলা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন।’

মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ও ইরানের পাল্টা হুমকি

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর। যদিও বিমানটির মডেল নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে, মার্কিন বাহিনী একজন পাইলটকে উদ্ধার করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনা ঘটে একদিন আগে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার পর।

ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর ইরানের আইআরজিসির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেছেন, ‘আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো স্পর্শ করে দেখুন, এ অঞ্চলে আপনাদের অবকাঠামো ও সম্পদ ধ্বংস করে ছাড়ব।’ তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার বিস্তার ও মানবিক সংকট

ইরানে হামলার মধ্যে শুক্রবার ও আগের রাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। কুয়েতের একটি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গ্যাসকেন্দ্রে হামলায় আগুন ধরে যায়। ইসরায়েলের হাইফা শহরসহ উত্তরাঞ্চলেও হামলা চলছে, যেখানে ৭০ শতাংশ তেল পরিশোধন করা হয়।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১,৩০০-এর বেশি নিহত এবং ১১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রাবাব খাদ্দাজ বিবিসিকে বলেন, ‘সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে, এমনকি যাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়নি তারাও।’ ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান হামলায় ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

এই সংকটে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ সারা সেগনেরি আল-জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও, আন্তর্জাতিকভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জন্য দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা মার্কিন পদক্ষেপকে সাহসী করে তুলছে।