কুয়েতে ইরানের হামলায় তেল ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত, উত্তেজনা তীব্র
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, ইরান কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোর উপর ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার দ্বিপ্রহরের ঠিক আগে একটি বিদ্যুৎ ও লোনা পানি শোধনাগার ইরানি হামলার শিকার হয়। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে শুক্রবার ভোরে কুয়েতের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার 'মিনা আল-আহমাদি'-তে ড্রোন হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, এই হামলার ফলে শোধনাগারের বেশ কয়েকটি অপারেশনাল ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। দ্রুত সেখানে দমকল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে এই ঘটনায় কোনো কর্মী হতাহত হননি এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার যে গুজব উঠেছিল তা ভিত্তিহীন। পরিবেশ অধিদপ্তর বর্তমানে ওই এলাকার বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করছে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই শোধনাগারটি আক্রান্ত হলো। কুয়েত উপকূল থেকে ইরানের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার হওয়ায় দেশটি ইরানের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
জনজীবনে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার দিনভর কুয়েতজুড়ে সাইরেন এবং মাঝ আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের শব্দ শোনা গেছে। কুয়েত ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপেয় পানির জন্য শোধনাগারগুলোর উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই হামলা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর আগে ৩০ মার্চ অনুরূপ এক হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। যদিও ইরান এসব হামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে এর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পানির সরবরাহের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কতা ও মধ্যস্থতার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



