ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংঘটিত এই হামলার পর উভয় দেশের স্থাপনাগুলোতে আগুন লেগে যায় এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হাবসান গ্যাস স্থাপনায় আগুন
আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবসান গ্যাস স্থাপনায় প্রতিহত করা মিসাইল বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেখানে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি কেন্দ্রে হামলা
অন্যদিকে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের একটি বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই দিনে সকালে দেশটির একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে সেখানে আগুন ধরে যায়। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের দায় স্বীকার
এই হামলাগুলো চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। শুরুর দিকে হামলা সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষতি
এই হামলার ফলে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্ষতির মুখে পড়ছে। জ্বালানি স্থাপনাগুলোর উপর হামলা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে শক্তি প্রয়োগ করা হলে তারা এতে অংশ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা



