ট্রাম্পের দাবি: আমি থামলে ইসরাইলও থামবে, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত আমার হাতে
ট্রাম্প: আমি থামলে ইসরাইলও থামবে, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত আমার হাতে

ট্রাম্পের দাবি: আমি থামলে ইসরাইলও থামবে, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত আমার হাতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরাইল তার নির্দেশ মেনেই চলবে এবং তিনি যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে তারাও থেমে যাবে। মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইসরাইল) আমার কথাই শুনবে। তারা ভালো টিম প্লেয়ার। আমি থামলে তারাও থামবে। উসকানি না পেলে তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে, তবে উসকানি পেলে তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’

বক্তব্যের সাংঘর্ষিকতা

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। গত মাসে টাইমস অব ইসরাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত হবে ‘পারস্পরিক’ এবং এতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুরও মতামত থাকবে। এই পরিবর্তন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের তথ্য

টাইম ম্যাগাজিনের দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় ট্রাম্প এখন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। প্রতিবেদনে এক ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্পের সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুর খুব বেশি কৌশলগত স্বাধীনতা নেই। এছাড়া, ইরানে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক বৈঠকে সামরিক অভিযান স্থগিতের ইঙ্গিত দেন। তবে পরে তিনি সীমিত সংখ্যক বিশ্বস্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে আবার পরিকল্পনা করেন এবং সেদিন রাতেই যুদ্ধের প্রথম হামলা শুরু হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেতানিয়াহুর চাপ ও ট্রাম্পের মন্তব্য

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত করতে চাপ দিয়ে আসছিলেন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি নাকি বলেন, ‘আমরা এতদূর এসেছি, ডোনাল্ড। এখন আমাদের শুরু করা কাজ শেষ করতেই হবে।’ তার দাবি ছিল, তেহরান সময়ক্ষেপণ করছে এবং গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প সাক্ষাতকারে স্বীকার করেন, ইরান ব্যাপক চাপের মুখেও অনমনীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। তিনি বলেন, ‘তারা অসাধারণ কষ্ট সহ্য করতে পারে, এজন্য আমি তাদের সম্মান করি। আমার মনে হয়, তারা যোদ্ধার চেয়ে আলোচক হিসেবে বেশি দক্ষ।’

এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত এবং ট্রাম্পের ভূমিকা এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।