ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের খোলা চিঠি
ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পর তেহরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী’ হামলার হুমকি দিয়েছে। পাশাপাশি, তেলআবিবকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ মার্চ) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হামলা প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যা বর্তমান সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের দাবি
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা তেলআবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলোর ওপর সফল হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইসরাইলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের খোলা চিঠি
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ আমেরিকা ফার্স্ট বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?’ রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে জানতে চেয়েছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থটি অর্জিত হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধেরও সূচনা করেনি। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানকে একটি হুমকি হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসার ফল। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশে তার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে হুমকিস্বরূপ।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ইরানের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি বৈধ আত্মরক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।



