ইরানে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের কৌশলগত ব্যর্থতা: থিংকট্যাংক বিশ্লেষণ
ইরানে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ব্যর্থতা: থিংকট্যাংক

ইরানে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের কৌশলগত ব্যর্থতা: থিংকট্যাংক বিশ্লেষণ

বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কৌশলগত সুবিধায় ইরানের এগিয়ে থাকা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও কৌশলগত অবস্থানে ইরান এখন অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান আত্মরক্ষা কৌশল পাঁচটি প্রধান দিক উন্মোচন করেছে, যা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। গবেষণায় দেখা যায়, সামরিক প্রযুক্তিতে উন্নত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কেবল ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা তাৎক্ষণিক আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বা রণকৌশলগত বিজয়ের দৌড়ে তারা পিছিয়ে পড়েছে।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া কিংবা দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্য নিয়ে পশ্চিমা শক্তি এগিয়েছিল, যা সফলভাবে রুখে দিয়েছে তেহরান। এই সাফল্য ইরানের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের কার্যকারিতা প্রতিফলিত করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব

এ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরান অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অপ্রতিসম যুদ্ধ চালিয়ে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দখল করতে বা পুনরায় সচল করতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি অনুকূল হয়ে উঠছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসতে হলে তাদের হয় একটি কৃত্রিম প্রচারণামূলক বিজয় দেখাতে হবে, নতুবা কোনো অর্জন ছাড়াই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে হবে। এই দুরবস্থা যুদ্ধের ফলাফলের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বব্যাপী থিংকট্যাংকগুলোর সম্মিলিত মূল্যায়ন

এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি প্রভাবশালী সংস্থা রয়েছে, যার মধ্যে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, কার্নেগি এন্ডোমেন্ট, সিএফআর, র‌্যান্ড করপোরেশন এবং হেরিটেজ ফাউন্ডেশন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউজ ও রুসি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এসআইপিআরআই, ব্রুগেলসহ এশিয়ার চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ ৯টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই পর্যালোচনায় স্থান পেয়েছে।

এর বাইরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামসহ ১৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই বিশ্লেষণে যুক্ত ছিল। এই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তারা মনে করেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়েও বড় বিষয় হলো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা, আর ঠিক সেই জায়গায়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।

সামগ্রিকভাবে, এই বিশ্লেষণ ইরানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত শক্তির প্রতি আলোকপাত করে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ এখনো অনিশ্চিত থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের অনুকূলে থাকায় বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারকদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।