ইরান যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, কূটনৈতিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক চাপে যুদ্ধবিরতি সম্ভাবনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ 'খুব শিগগির' শেষের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য সমাপ্তির দিকে ইঙ্গিত করে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় তিনি এই বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি যুদ্ধের সমাপ্তির সময়সীমা হিসেবে দুই থেকে তিন সপ্তাহের কথা উল্লেখ করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে যুদ্ধের শেষসীমা দেখতে পাওয়ার কথা বলেছেন, যদিও বর্তমানে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধের পটভূমি ও ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, এবং এরপর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও একই সময়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছেন। এই দ্বিমুখী অবস্থান প্রশ্ন তুলেছে যে, তিনি আদৌ দ্রুত যুদ্ধ শেষ করবেন কিনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ওয়াশিংটন কৌশলগত ব্যর্থতার মুখে পড়েছে, যা ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিবর্তন আনছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ট্রাম্পের চাপ
যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও পড়ছে। গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে রয়টার্স–ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, দুই–তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত ইরান যুদ্ধ বন্ধ চান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা ব্লিমসের মতে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে, যা দেশটির জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে আরও তীব্র করছে।
ন্যাটো সম্পর্কে ট্রাম্পের অসন্তোষ
ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় ট্রাম্প বেশ চটেছেন। তিনি ন্যাটোকে 'কাগুজে বাঘ' আখ্যা দিয়ে জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধ শেষে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হবে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে থাকবে।
হামলা অব্যাহত ও মানবিক সংকট
ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষের বক্তব্য সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার যুদ্ধের ৩৩তম দিনে ইরানের তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে, পাশাপাশি ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ত্রিমুখী হামলার শিকার হয়েছে ইসরায়েল। ইরানে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং স্থানীয়রা যুদ্ধের ক্লান্তি ও দুর্দশার কথা প্রকাশ করেছেন।
কূটনৈতিক আলোচনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরানের 'এপিক ফিউরি' অভিযান শেষ করতে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই, তবে মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে চুক্তির জন্য আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, যা যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সংকেত দিতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তারা যুদ্ধ ছয় মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে প্রস্তুত এবং কোনো যুদ্ধবিরতি আহ্বান জানায়নি।
এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত কূটনৈতিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক চাপের ফল বলে মনে করা হচ্ছে, কিন্তু হামলা ও মানবিক সংকটের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষকরা এখন যুদ্ধের গতিপথ ও সম্ভাব্য সমাধানের দিকে নজর রাখছেন।



