ইরান থেকে দ্রুত সরে আসার ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে 'খুব দ্রুত' সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে আবারও ফিরে আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ন্যাটোর প্রতি অসন্তোষ ও ইরান যুদ্ধের চাপ
ট্রাম্প তাঁর ভাষণের একটি দিক হিসেবে ন্যাটোর প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ইরানে মার্কিন লক্ষ্য অর্জনে এই জোটের পক্ষ থেকে সমর্থনের অভাব রয়েছে। তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি 'অবশ্যই' বিবেচনা করছেন বলে জানান। ১৯৪৯ সালে মার্কিন সিনেটে এই জোটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের যখন দরকার পড়ল, তখন তারা বন্ধুর পরিচয় দেয়নি। আমরা কখনো তাদের কাছে খুব বেশি কিছু চাইনি...এটা সব সময় একতরফা ছিল।' ইরান যুদ্ধ ইতিমধ্যে পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় এ যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজতে চাপে আছেন তিনি।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্র কখন ইরান যুদ্ধ শেষ বলে বিবেচনা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমি আপনাকে নির্দিষ্ট করতে বলতে পারব না...আমরা খুব দ্রুতই সরে আসব।' তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন অভিযানের ফলে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।
ট্রাম্পের ভাষায়, 'তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। কারণ, তাদের এখন আর সেই সক্ষমতায় নেই। এরপর আমি চলে যাব এবং আমার সঙ্গে সবাইকে নিয়ে যাব। আর যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমরা আবার ফিরে আসব “স্পট হিট” (সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত) করার জন্য।' ইরান দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে।
সরকার পরিবর্তন ও চুক্তির সম্ভাবনা
বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়েও ট্রাম্প তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, 'আমরা পুরোপুরি সরকার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি। আমি মনে করি, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, তারা আর কোনো বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হতে চায় না।'
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, 'আমার সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির সুবাদে আমরা তা পেয়েছি। আমরা এটি অর্জন করেছি। সুতরাং আমরা সরকার পরিবর্তন করতে পেরেছি। বড় বিষয় হলো, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।' তিনি যোগ করেন, 'তারা এখন এটি চায়ও না।'
ইউরেনিয়াম ও ভবিষ্যৎ নজরদারি
ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, 'সেগুলো মাটির অনেক গভীরে রয়েছে, আমি ওসব নিয়ে চিন্তা করি না।' তবে তিনি সতর্ক করে দেন, 'আমরা সব সময় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেটির ওপর নজর রাখব।' এই বক্তব্যগুলো ইরান যুদ্ধের জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।



