ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, জোট ত্যাগের হুমকি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ন্যাটোর অংশগ্রহণ না করায় গুরুত্বের সঙ্গে সামরিক জোটটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মর্মে মন্তব্য করেছেন, যা বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ন্যাটোকে 'কাগুজে বাঘ' বলে উল্লেখ করে জোটের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ন্যাটোর প্রতি অসন্তুষ্টির পটভূমি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়। এই সংকট নিরসনে ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও, তারা সেই দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনাই মার্কিন প্রশাসনকে ইউরোপকে আর নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে দেখতে বাধ্য করছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই মনোভাবের সবচেয়ে স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ট্রাম্পের স্পষ্ট বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সাক্ষাৎকারে এই সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বলেন, 'ওহ হ্যাঁ, আমি বলব এটি পুনর্বিবেচনার ঊর্ধ্বে। আমি কখনো ন্যাটো দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি সব সময় জানতাম ওরা একটা কাগুজে বাঘ। আর পুতিনও সেটা জানেন।' তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র একবার এই জোট থেকে সরে আসে, তাহলে সংঘাত শেষ হওয়ার পর পুনরায় এতে যোগদানের বিষয়টি 'পুনর্বিবেচনা' করার কোনো প্রশ্নই উঠবে না। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের এই অবস্থান ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কাঠামো ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হুমকি শুধু রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে একটি গভীর পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। ইরান সংকটের পাশাপাশি ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সকলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।



