ট্রাম্পের ইরান আগ্রাসন বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের আগ্রহ বাড়াচ্ছে
ট্রাম্পের ইরান আগ্রাসনে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের আগ্রহ বাড়ছে

ট্রাম্পের ইরান আগ্রাসন বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের আগ্রহ বাড়াচ্ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং গোটা বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও মার্কিন উদ্বেগ

ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলা এই উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হয়েছিল। এর আগে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছিল, ইরানের কাছে ৪০৮.৬ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জমা রয়েছে, যা আরও পরিশোধনের মাধ্যমে ৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

আইএইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের কাছে প্রায় ২০০ কেজি ২০ শতাংশ মাত্রার পারমাণবিক পদার্থও রয়েছে, যা সহজেই সমরাস্ত্র-মানের ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আশঙ্কা অমূলক ছিল না, কারণ ইরানের ভাণ্ডারে প্রায় ২,৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধ ইরানের পারমাণবিক স্বপ্নকে শক্তিশালী করছে

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধীর করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে আরও সংকল্পবদ্ধ করে তুলছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রমেশ ঠাকুর বলেছেন, "ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রই এখন একমাত্র জিনিস যা তাদের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার নিশ্চয়তা দেবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের জেনিফার কাভানাঘ উল্লেখ করেছেন, মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের মিসাইল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, একটি পারমাণবিক বোমা এখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দ্রুততম পথ হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার

এই সংঘাত শুধু ইরানই নয়, বরং অন্যান্য দেশগুলোকেও নিজস্ব পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্ররোচিত করছে:

  • উত্তর কোরিয়া: কিম জং উন ইরান যুদ্ধকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
  • সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশর: বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, ইরান যদি টিকে থাকে, তবে এই দেশগুলোও নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করতে পারে।
  • দক্ষিণ কোরিয়া: জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭৬.২ শতাংশ মানুষ নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচির পক্ষে, যা মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর তাদের উদ্বেগ প্রতিফলিত করে।
  • ইউরোপ: ট্রাম্পের মন্তব্য ও রাশিয়ার হুমকির কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো নতুন সুরক্ষা জোট গঠনের দিকে এগোচ্ছে।

মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টির বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে সরে আসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সিউলের ট্রয় ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানিয়েল পিঙ্কস্টন বলেছেন, "কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল যে আমরা আপনাদের সুরক্ষা দিতে পারব, কিন্তু এই প্রশাসন নিরাপত্তা সহযোগিতায় আগ্রহী নয়।"

এই পরিস্থিতি বিশ্বে আরও পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঘটাতে পারে, যা ভুল হিসাব ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলা শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাতই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।