ট্রাম্পের গোমর ফাঁস: ইরানি হামলা থেকে পালিয়েছে মার্কিন বৃহত্তম রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বক্তৃতায় অভিযোগ করেছেন যে, ইরানের হামলার কারণে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পালাতে বাধ্য হয়েছে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা বর্তমান পশ্চিম এশিয়া সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রণতরীর মোতায়েন ও প্রত্যাহারের পেছনের কাহিনী
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছিল। এই রণতরীটি ভূমধ্যসাগর হয়ে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে প্রবেশ করে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি আরব সাগরে মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লোহিত সাগর থেকেই ফিরে যায় এই সমুদ্র দানব।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, রণতরীটির লন্ড্রি বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মেরামতের জন্য এটি গ্রিসের একটি বন্দর হয়ে ক্রোয়েশিয়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। গত শুক্রবার ক্রোয়েশিয়ায় নোঙর করার খবর নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও পেন্টাগনের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প তার বক্তৃতায় দাবি করেছেন যে, ইরান জেরাল্ড আর ফোর্ডে ১৭টি দিক থেকে সফলভাবে আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি বলেন, "ইরান বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীটিকে ১৭টি কোণ থেকে আঘাত করেছে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে আমাদের পালাতে হয়েছিল—সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছিল।" তার মতে, এই হামলার ফলে রণতরীটির ৪ হাজার ৫০০ নাবিক যুদ্ধের বাইরে চলে গেছেন।
যাইহোক, পেন্টাগন দ্রুত ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুসারে, পশ্চিম এশিয়া সংকটের মধ্যে এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে ট্রাম্পের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
মিডিয়া কভারেজ ও বিভ্রান্তি
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ন্যাশনাল হেরাল্ডের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী জাহাজটি বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে, যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, দ্য কুইন্ট জানিয়েছে যে, বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তৃতার ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে।
ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ইনস্টিটিউটে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তৃতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, "ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীর বিরুদ্ধে ইরানের অভিযানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন: 'ইরান ১৭টি দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী আক্রমণ করেছে। আমাদের জীবন বাঁচাতে পালাতে হয়েছে। সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল'।"
আঞ্চলিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই ঘটনা পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যদিও পেন্টাগনের প্রত্যাখ্যান এই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের বিবৃতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের গোমর ফাঁস করা এই দাবি এবং পেন্টাগনের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বিতর্কিত বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এর ফলাফল নিয়ে নজর রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



