ইরানের ইসফাহান প্রদেশে সামরিক স্থাপনায় হামলা
ইরানি গণমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে হামলায় কিছু সামরিক স্থাপনা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনও উল্লেখ করা হয়নি।
প্রাদেশিক কর্মকর্তার বক্তব্য
ফার্স নিউজ এজেন্সি ইসফাহান প্রদেশের গভর্নর অফিসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আকবর সালেহির বরাত দিয়ে জানায়, "প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ইসফাহানের কিছু সামরিক স্থান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।" কর্মকর্তা আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
ইসফাহানের কৌশলগত গুরুত্ব
ইসফাহান প্রদেশ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্র এবং এখানে নাতানজের মতো বড় পারমাণবিক সুবিধা অবস্থিত। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, গত জুনে ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের সংঘাত এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বর্তমান যুদ্ধে এই পারমাণবিক স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
প্রদেশটিতে বেশ কয়েকটি প্রধান সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- বাদর বিমানঘাঁটি
- ৮ম শেকারি বিমানঘাঁটি
- ৪র্থ বিমানবাহিনী ঘাঁটি
বেসামরিক ও ঐতিহাসিক অবকাঠামোয় আঘাত
সংঘাতের সময় হামলাগুলো বেসামরিক ও ঐতিহাসিক অবকাঠামোকেও আঘাত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি। ইসফাহানের নকশ-ই জাহান স্কয়ারে ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যেমন সাফাভিদ যুগের আব্বাসি জামেহ মসজিদ ও আলি কাপু প্রাসাদ।
ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের মহাসচিব হাসান ফারতৌসি বলেছেন, প্রদেশটিতে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। শিল্প সুবিধাগুলোও প্রভাবিত হয়েছে, যেখানে হামলায় মোবারকেহ স্টিল কোম্পানি কমপ্লেক্স আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
এই ঘটনাটি ইরানের কৌশলগত অবকাঠামোর উপর চলমান সংঘাতের প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য উদ্বেগজনক।



