ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন অভিযান বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষজ্ঞের হুঁশিয়ারি
স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে ইরানের খারগ দ্বীপের অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এই দ্বীপটি ইরানের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস সিএনএনকে বলেন, 'আমার মনে হয় ইরানিরা খারগ দ্বীপে আমেরিকানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর সুযোগ পাবে, আর এতে শুধু প্রাণহানি বাড়তেই থাকবে।' এই হুঁশিয়ারি ইরানে যুদ্ধ মাস গড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে।
ট্রাম্পের মিশ্র সংকেত ও ইরানের প্রস্তুতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে শান্তির পথে অগ্রগতির কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে খারগ দ্বীপে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। এই মিশ্র সংকেতের ভেতর ম্যালকম ডেভিস তার মন্তব্য করেছেন। ইরান গত কয়েক সপ্তাহে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খারগ দ্বীপে বিভিন্ন ধরনের 'ফাঁদ' পেতে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। ডেভিস সতর্ক করে বলেছেন, 'পরিস্থিতি কোনোভাবেই শান্তির দিকে এগোচ্ছে, এমনটা বলার কোনো সুযোগ নেই।'
কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক পরিকল্পনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছে, তা বন্ধে এখন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তানসহ চারটি মুসলিম দেশ। ট্রাম্প আলোচনায় অগ্রগতির কথা বললেও পাশাপাশি খারগ দ্বীপে অভিযানের কথাও বলছেন। ম্যালকম ডেভিস ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের পরিকল্পিত স্থল অভিযান শুরু করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এটি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও নড়বড়ে করে তুলবে।
খারগ দ্বীপের গুরুত্ব ও ইতিহাস
'পারস্য উপসাগরের নিঃসঙ্গ মুক্তা' নামে পরিচিত এই 'নিষিদ্ধ দ্বীপ'টি প্রাচীন ইতিহাস ও আধুনিক জ্বালানি সাম্রাজ্যের এক অনন্য মিশেল। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধেও এটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখান থেকেই প্রধানত এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে তেল রপ্তানি করা হয়। ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনটি প্রধান তেলক্ষেত্র—আবোজার, ফোরুজান ও দোরুদ থেকে তেল এখানে আসে এবং প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
তেল রপ্তানি সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এই দ্বীপের টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন দুটি বিশাল ট্যাংক সংস্কারের মাধ্যমে এর ধারণক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের দৈনিক রপ্তানি ১৬ লাখ ব্যারেলের আশপাশে হলেও এই টার্মিনালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিনে ৭০ লাখ ব্যারেল। পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, 'যদি ট্রাম্প খারগ দ্বীপটি ধ্বংস না করে দখল করেন, তাহলে তিনি নিশ্চিত করতে পারবেন, ইরান সরকার আর কখনো তাদের আমলা ও সেনাদের বেতন দিতে পারবে না।'



