দ্রুত চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
চুক্তি না হলে ইরান ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

দ্রুত চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত চুক্তিতে আসার জন্য চাপ দিয়েছেন, অন্যথায় দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কাছাকাছি রয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে হুমকির বার্তা

সোমবার (৩০ মার্চ) ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরানে আমাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন এবং আরও যুক্তিবাদী শাসগোষ্ঠীর সঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু যদি কোনো কারণে দ্রুত চুক্তি না হয়—যা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল—এবং যদি হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ ও খারগ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেব।

সময়সীমা ও প্রতিশোধের ইঙ্গিত

ট্রাম্প জানান, এর আগে ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তাই যুক্তরাষ্ট্র উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এখন পর্যন্ত ওই স্থানগুলোতে আঘাত করেনি। তিনি বলেন, পুরানো শাসনামলের ৪৭ বছরের সন্ত্রাসের রাজত্বে ইরান আমাদের যেসব সৈন্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, এটি হবে তারই প্রতিশোধ। এই নতুন হুমকিটি এমন সময়ে এল যখন ট্রাম্প রোববার (২৯ মার্চ) গভীর রাতে জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে আলোচনা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালি ও সামরিক প্রস্তুতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। এই প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন নৌসেনা ইউএসএস ত্রিপোলিতে চড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন, যা হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সুরক্ষায় মোতায়েন করা হতে পারে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।

আলোচনা ও মধ্যস্থতা

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি আলোচনার কথা জনসমক্ষে নিশ্চিত করেনি, তবে খবর পাওয়া গেছে যে তারা ইরানের হার্ডলাইন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সম্ভাব্য আলোচনার অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে গালিবাফ দাবি করেছেন, শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার বার্তা পাঠালেও গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা জানেন না যে ইরানিরা তাদের জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে।

মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।