রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ কিউবায় পৌঁছেছে, জ্বালানিসংকটে মস্কোর সাহায্যের হাত
জ্বালানিসংকটের তীব্র সংকটে পড়া কিউবায় রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকার পৌঁছেছে, যা দেশটির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, জানিয়েছে যে 'আনাতোলি কোলোডকিন' নামের জাহাজটি প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে কিউবার মাতানজাস বন্দরে অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যা দেশটিকে জ্বালানিসংকটে ফেলে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে হুমকি দিয়েছিলেন যে কিউবায় তেল পাঠানো দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হবে, কিন্তু গত রোববার তিনি তাঁর অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন এবং কিউবার জনগণের দুর্ভোগের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
কিউবায় জ্বালানিসংকটের ভয়াবহতা
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ ক্যানেল জানিয়েছেন যে গত তিন মাস ধরে দেশে কোনো তেলের ট্যাংক আসতে পারেনি, ফলে ১০ কোটি মানুষের দেশটিতে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। জ্বালানির অভাবে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হাভানার মতো শহরগুলোতে বাসিন্দারা পানির ট্যাংকার থেকে বালতি ও অন্যান্য পাত্রে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে এই সংকটের কারণে ক্যানসার রোগী, বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ১৯৫৯ সালের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর থেকে কিউবা তেলের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা জ্বালানি তেল ও ডিজেলের অত্যন্ত প্রয়োজন।
রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সাহায্য
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় (ক্রেমলিন) জানিয়েছে যে তারা কিউবায় জ্বালানি তেল পাঠানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে, কিন্তু কিউবার মতো 'বন্ধুদের' পাশে দাঁড়ানো রাশিয়ার দায়িত্ব বলে মনে করে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় এ বিষয়টি আগেই উত্থাপন করা হয়েছিল।'
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রুশ ট্যাংকারটি ৮ মার্চ রাশিয়ার বাল্টিক সাগরের প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়ে কিউবায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে আরও তেলের চালান পাঠানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, 'কিউবার মানুষ বর্তমানে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। তাই আমরা এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাব।'
এই ঘটনা লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিশীলতায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। কিউবার জ্বালানিসংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, বিশেষ করে মানবিক সহায়তার প্রেক্ষাপটে।



