জাপানের পারমাণবিক বোমা সারভাইভাররা ইরান ও গাজায় আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন
জাপানে মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া নাগরিকরা ইরান ও গাজায় মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তারা লিখিতভাবে এই নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইসরাইলি দূতাবাসের অস্বীকৃতি ও সারভাইভারদের প্রতিক্রিয়া
জাপানি দৈনিক দ্য মাইনিচি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, টোকিওতে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস পারমাণবিক বোমা থেকে বেঁচে যাওয়া চারটি সংগঠনের যৌথ স্বাক্ষরিত চিঠিটি গ্রহণে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নাগাসাকি পারমাণবিক বোমা সারভাইভারস কাউন্সিলের ৮৫ বছর বয়সী প্রধান শিগেমিৎসু তানাকা এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, ‘নথিটি না পড়েই ফেরত পাঠানো হয়েছে। আমার মনে হয় তারা ক্রমশ সংকীর্ণমনা হয়ে উঠছে।’ এই ঘটনা সারভাইভারদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
চিঠির মূল বক্তব্য ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান
চলতি মাসের শুরুর দিকে পাঠানো এই চিঠিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং ইরান ও গাজায় হামলাগুলোকে ‘বর্বর’ বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হয়েছিল। চিঠিতে শান্তি ও মানবতার প্রতি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা সরাসরি অনুভব করা এই ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।
অঞ্চলব্যাপী উত্তেজনা ও হামলার প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের জবাবি হামলায় ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
- ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
- বিশ্ববাজার ও বিমান চলাচলে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
- অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
টোকিওতে বিক্ষোভ ও শান্তি সমাবেশ
রোববার (২৯ মার্চ) টোকিওতে জাপানি বিক্ষোভকারীরা ‘ড্রপ বাস নট বোম্বস’ শীর্ষক এক সমাবেশে অংশ নেন, যা ইরান ও গাজায় মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের প্রতিবাদে আয়োজিত হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ আয়োজক ‘প্রোটেস্ট র্যাভ’-এর পোস্ট করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ‘চাইলেই যুদ্ধ শেষ,’ ‘যুদ্ধ নয়,’ এবং ‘বর্ণবাদ নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড ও পতাকা হাতে নিয়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
ইরানি দূতাবাসের সামনে স্মরণ অনুষ্ঠান
পৃথকভাবে, জাপানে নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস রোববার (২৯ মার্চ) জানিয়েছে যে, ইরানি বাসিন্দা ও জাপানি নাগরিকদের একটি দল দূতাবাসের সামনে একত্রিত হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা শুরুর সময় মিনাব শহরে বিমান হামলায় নিহত ১৬৫ জনের বেশি স্কুলছাত্রীর স্মরণে তারা এই কর্মসূচি আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক মূল্যবোধের উপর জোর দেওয়া হয়।
এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জাপানের পারমাণবিক সারভাইভারদের ভূমিকা এবং চলমান সংঘাতের জটিলতা উন্মোচন করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।



