এক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের তীব্র প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। যদিও আলোচনার আওয়াজ উঠেছে, কিন্তু দুই পক্ষের কেউই হামলা বন্ধ করেনি। তবে যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যার অংশ হিসেবে রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুই দিনের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ
এই দুই দিনের আলোচনায় তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই বৈঠকটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালিকে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম দিনের আলোচনার ফলাফল
প্রথম দিনের আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আঞ্চলিকভাবে শক্তিধর দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।
পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ
বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে ফোনে কথা বলেন। এটি ছিল পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় ফোনালাপ, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা নির্দেশ করে। এই যোগাযোগগুলো যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
এই বৈঠকের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে, যদিও যুদ্ধের প্রভাব এখনও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।



