ইরানের 'জাহান্নামে স্বাগতম' হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান পরিকল্পনা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরানের সরকারি গণমাধ্যম তেহরান টাইমস তাদের ইংরেজি সংস্করণের প্রথম পাতায় 'ওয়েলকাম টু হেল' বা 'জাহান্নামে স্বাগতম' শিরোনাম দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুমকি দিয়েছে। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে খবর ছড়িয়েছে।
মার্কিন সেনাদের প্রতি ইরানের সতর্কবার্তা
তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে তারা 'কফিনে করেই ফিরবে'। এই হুমকি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে। ওয়াশিংটন ইরানের ভেতরে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্পের শান্তি আলোচনা ও সামরিক প্রস্তুতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ করতে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো ট্রাম্পকে সামরিক বিকল্পের পরিধি বাড়িয়ে দেওয়া। ইতোমধ্যে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ও মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে, যা যুদ্ধের সম্ভাবনা আরও জোরালো করছে।
ইরানের পাল্টা কৌশল ও হুথি বিদ্রোহীদের ভূমিকা
একজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালায়, তবে তেহরান হুথি বিদ্রোহীদের সক্রিয় করবে। ইয়েমেনভিত্তিক এই গোষ্ঠীকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর আবার হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, যা যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খুলে দেবে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে।
অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সম্ভাব্য অবস্থান
ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে সেনা পাঠানোর কোনো ইচ্ছা রাখেন না। তবে অতিরিক্ত মার্কিন সেনারা কোথায় অবস্থান নেবে তা স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের সম্ভবত ইরান ও তার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ আইল্যান্ডের কাছাকাছি স্থাপন করা হতে পারে, যা ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সরাসরি লক্ষ্য করতে পারে।
ইসরাইলের হামলা ও যৌথ উত্তেজনা
এদিকে, ইসরাইলের সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে যে তারা তেহরানের কেন্দ্রে 'ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের' অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। একই দিনে তারা বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও পুনরায় হামলা চালায়, যেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই ঘটনাগুলো ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার সম্ভাবনা আরও জোরালো করে তুলছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের 'জাহান্নামে স্বাগতম' হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশ্ব শান্তির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।



