ট্রাম্পের স্পষ্ট 'না' সত্ত্বেও ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা পেন্টাগনের
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন ইরানে সম্ভাব্য একটি স্থল অভিযানের পরিকল্পনা সপ্তাহ ধরে তৈরি করে রেখেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাজার হাজার মার্কিন সেনা ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে, যিনি প্রকাশ্যে সেনা পাঠানোতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপদের আশঙ্কা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের 'যুদ্ধের নতুন একটি পর্যায়' সৃষ্টি করবে। তারা উল্লেখ করেছেন, এই অভিযান প্রথম চার সপ্তাহের লড়াইয়ের চেয়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য 'অনেক বেশি বিপজ্জনক' হতে পারে, কারণ সেনারা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, স্থল গোলাগুলি ও তাৎক্ষণিক বিস্ফোরকের মুখোমুখি হতে পারেন।
যেকোনো স্থল অভিযান পূর্ণ আক্রমণের মতো হবে না বলে জানানো হয়েছে। বরং, এতে স্পেশাল অপারেশন বাহিনী ও সাধারণ পদাতিক সেনাদের অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আলোচনায় ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সময়সীমা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য এই অভিযান 'মাস নয়, সপ্তাহব্যাপী' হতে পারে, যা শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জোর দিয়ে বলেছেন, 'সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিত করতে পেন্টাগনকে প্রস্তুত করা তার কাজ, কিন্তু এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।' প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, 'আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না।'
বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপট
গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এরও বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানে হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও অন্তর্ভুক্ত। ইরান পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হানছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের পরিকল্পনা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যদিও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।



