ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি, নেতানিয়াহু সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, নেতানিয়াহুর জন্য চ্যালেঞ্জ

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ব্যাপক যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তেলআবিবের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলমান প্রতিবাদে দুই দেশের সরকার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামি নেতানিয়াহুর সরকারের জন্য এই বিক্ষোভ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

হাবিমা স্কোয়ারে বিশাল সমাবেশ ও গ্রেফতার

শনিবার রাতে ইসরাইলের তেলআবিবে অবস্থিত হাবিমা স্কোয়ারে আয়োজিত এক বিশাল যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে প্রায় ১২০০ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ইসরাইলি পুলিশ এই সমাবেশ থেকে অন্তত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভের আয়োজক ও আইনের ছাত্র ইতমার গ্রিনবার্গ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জানান, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মধ্যে শনিবারের জমায়েতটি ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ঘটনা।

গ্রিনবার্গের মতে, "যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে মাত্র ২০ জন নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের সমর্থন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আগে কেবল ইসরাইলের কট্টর বামপন্থিরাই এই যুদ্ধে বিরোধিতা করতেন, কিন্তু বর্তমানে উদারপন্থি ইহুদিবাদীরাও এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে শামিল হতে শুরু করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনমতের পরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রভাব

ইসরাইলি জনমত ঐতিহ্যগতভাবে যুদ্ধের পক্ষে থাকলেও, শনিবারের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণ বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা একে একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যেই এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধরপাকড় সত্ত্বেও তারা আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।

এতদিন ইসরাইলের যুদ্ধপন্থি মনোভাব প্রায় একপাক্ষিক থাকলেও, এখন উদারপন্থি ইহুদিবাদীদের রাস্তায় নামা নেতানিয়াহু সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার, রিজার্ভ সেনাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার অনিশ্চয়তা সাধারণ ইসরাইলি নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, যুদ্ধের প্রশ্নে ইসরাইলি সমাজ এখন আর একক অবস্থানে নেই, যা আগামী নির্বাচনের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার উদ্বেগ

বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি পুলিশের সহিংস আচরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজর কেড়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো এই গ্রেফতারের ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে। তারা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ ও তাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ চলমান রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান জোটের ওপরও প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন শুধুমাত্র ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রে চলমান যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সরকারগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করছে। নেতানিয়াহু সরকারের সামনে এখন যুদ্ধের পথ অব্যাহত রাখা নাকি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোনো—এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। এই পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।