ইরানের মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে
ইরানের এফ-১৮ ভূপাতিতের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান

ইরানের মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) তারা এই দাবি প্রকাশ করে এবং প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রদর্শন করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দাবিটিকে সরাসরি 'মিথ্যা' আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

দাবির বিস্তারিত ও ভিডিও প্রমাণ

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আকাশে উড়ন্ত একটি যুদ্ধবিমানের কাছে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যায়। এরপর বিমানটি অস্থির হয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ার মতো কিছু বের হতে দেখা যায়। তবে হামলার সঠিক স্থান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে ইরানের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, 'ইরানের দ্বারা কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।' তারা দাবিটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে এবং এই বিষয়ে আরও কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এফ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানের পরিচিতি

এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের আনুষ্ঠানিক নাম এফ/এ-১৮ হর্নেট বা সুপার হর্নেট। এটি একটি বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়নে সক্ষম বহুমুখী যুদ্ধবিমান যা মার্কিন নৌবাহিনী এবং মেরিন কোর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকে। এই বিমানগুলো প্রায়শই আরব সাগর ও বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ থেকে পরিচালিত হয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীতের অনুরূপ দাবি

এর আগেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন সেইসব দাবিকেও স্বীকার করেনি এবং সেগুলোকে উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। বর্তমান দাবিটিও একই ধারায় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা ইরান-মার্কিন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিস্থিতির আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।