ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য যেকোনো শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা সত্ত্বেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় হিব্রু সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল্লা’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের অনড় অবস্থান

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকস্মিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইসরায়েল তার নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর। ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, চরমপন্থী ইরানি শাসনের সঙ্গে কোনো ব্যবস্থা করা হলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান থামবে না।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিব বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইসরায়েল মনে করছে যে, লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ইরানের ছায়াশক্তি হিসেবে কাজ করে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যতক্ষণ না লেবাননে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিয়ে উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানিরা এমন একটি সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে যাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ না করলে ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা অব্যাহত রাখা যায়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ধরনের কোনো যোগসূত্র বা শর্ত মেনে নিতে নারাজ।

হুমকির মুখে অনড় অবস্থান

তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার হুমকির মুখে তারা তাদের সামরিক কৌশল পরিবর্তন করবে না। এর আগে বুধবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধের ঘোষণা দিতে পারে বলে ইসরায়েল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বর্তমানে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল মনে করছে, এখন পিছু হঠলে হিজবুল্লাহ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমেরিকার কূটনৈতিক চাপের মুখেও নেতানিয়াহু সরকার তাদের সামরিক অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি

এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ একদিকে যখন শান্তি আলোচনার গুঞ্জন চলছে, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা বেড়েই চলেছে। ইসরায়েলের এই একতরফা সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সামরিক কৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। লেবাননে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।