ইরানের নিম্ন-উচ্চতার ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংকট: বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
ইরানের ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংকট

ইরানের নিম্ন-উচ্চতার ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংকট: বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনায় সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, নিম্ন-উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করার সুযোগটি ইরান খুবই সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ঘাটতি ও ইরানের কৌশলগত সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের ‘রিইম্যাজিনিং ইউএস গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’ প্রকল্পের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, "এই যুদ্ধের একটি অদ্ভুত বিষয় হলো, যেসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভালো করার কথা, সেসব ক্ষেত্রেই তারা সফল হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ আকাশসীমায় ইরানের সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথাগত লড়াইয়ে তারা ভালো করছে।

তবে গ্রিকো স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হিমশিম খাচ্ছে সেই ক্ষেত্রে যেখানে তারা পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। সেটি হলো আকাশ নিয়ন্ত্রণে নিম্ন-উচ্চতার হুমকি। ইরানের নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন হামলা ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের মোবাইল ব্যবস্থা ও আধিপত্য রুখে দেওয়ার কৌশল

গ্রিকো ব্যাখ্যা করেন, ইরান উচ্চমাত্রার মোবাইল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য রুখে দিচ্ছে। যেখানে আধিপত্য বজায় রাখা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। ইরান জানে যে সরাসরি আকাশযুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সমকক্ষ নয়। তাই তারা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিচু আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরান ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ চালাচ্ছে, বিশেষত ড্রোনের মাধ্যমে। তাদের উদ্দেশ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষতি ও ভোগান্তি তৈরি করা। ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলো নির্মাণে খরচ কম হলেও সেগুলো মোকাবিলা করতে লাখ লাখ ডলার খরচ করতে হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

গ্রিকোর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি তাদের সব সক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা এখন তেহরানের আকাশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছি।"

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একে ‘ইতিহাসে নাম লেখানোর মতো বিজয়’ বলে বর্ণনা করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু নিচু দিয়ে ওড়া ইরানের ড্রোন শনাক্ত করতে তাদের ভিন্ন ধরনের সেন্সর ও রাডার প্রয়োজন, যা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের ড্রোন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।