ট্রাম্পের ইরান আগ্রাসন: সিনেটররা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, বার্নি স্যান্ডার্সের তীব্র বিরোধিতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের অনুরোধে দেশটির সিনেটররা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। বিশেষ করে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যা প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
বার্নি স্যান্ডার্সের প্রতিবাদ ও অর্থায়ন বন্ধের হুমকি
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি ইরান যুদ্ধের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ২০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের অনুরোধে ‘একেবারেই’ সমর্থন দেবেন না। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ আপত্তিপত্র পেশ করতে যাচ্ছি, যা ইসরাইলে পাঠানো ২০ হাজার বোমা এবং বুলডোজার সরবরাহ বন্ধ করবে।’
স্যান্ডার্স আরও যোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তিনি জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং আমেরিকানদের ওপর বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপের জন্য প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। সিএনএন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ছে। মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব
স্যান্ডার্স উল্লেখ করেন, ইরান যুদ্ধে ‘শত শত বিলিয়ন ডলার’ ব্যয় হবে, যা আমেরিকানদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে। তিনি বলেন, ‘আপনি রিপাবলিকান হোন বা ডেমোক্র্যাট, এটি এমন কোনো যুদ্ধ নয় যা আমেরিকার জনগণ চায়।’
তিনি গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমরা কি সেই ইসরাইলের সঙ্গে কাজ করতে চাই যারা গাজার মানুষকে ধ্বংস করে দিয়েছে? গাজার ১০ শতাংশ মানুষ হয় মৃত নয়তো আহত।’
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে, যাতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্ববাজার, বিমান চলাচল এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
স্যান্ডার্সের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাপক বিরোধিতার মুখোমুখি হতে পারে, যা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।



