ইরানের হুঁশিয়ারি: আমিরাত-বাহরাইনের উপকূল দখলের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র
ইরানের আমিরাত-বাহরাইন উপকূল দখলের হুমকি, উত্তেজনা তীব্র

ইরানের তীব্র হুঁশিয়ারি: আমিরাত-বাহরাইনের উপকূল দখলের হুমকি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ধরনের 'ভুল' পদক্ষেপ নিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের উপকূলীয় অঞ্চল দখল করে নেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোর্তেজা সিমিয়ারি এই হুমকি উচ্চারণ করেন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা

সিমিয়ারি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী যদি মধ্যপ্রাচ্যে কোনও ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা নিতে 'পুরোপুরি প্রস্তুত' রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আমিরাত ও বাহরাইনের উপকূল দখল করে নেওয়ার বিষয়টি ইরানের কর্মপরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই দখল কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

আমিরাতের কঠোর অবস্থান ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব

ইরানি বিশ্লেষকের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তারা 'সন্ত্রাসীদের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলড' হবেন না। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশও তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের নগ্ন আগ্রাসন গভীর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের 'নিরাপত্তা অংশীদারত্ব' আরও জোরালো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পাল্টা হামলা ও আমিরাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামো এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে নিয়মিত পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমিরাত একাই ৩৩৮টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৭৪০টি ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

আঞ্চলিক দেশগুলোর অবস্থান পরিবর্তন

প্রাথমিক পর্যায়ে সৌদি আরব ও আমিরাত ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা যুদ্ধের সমর্থনের দিকে ক্রমশ ঝুঁকছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের পশ্চিমাঞ্চলের কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটি মার্কিন বাহিনীর ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, আমিরাতও যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনকে কোনও ধরনের চাপ দিচ্ছে না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার দেশ ৯ মাস পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।