আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজারো সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এই সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর খবর দিয়েছে রয়টার্স। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য আগ্রাসন সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও পেন্টাগন নতুন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
সেনা মোতায়েনের বিস্তারিত তথ্য
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনা সদস্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন দুটি সূত্র জানায়, সেনারা বর্তমানে নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থান করছে। তবে তারা ঠিক কোথায় এবং কবে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে মন্তব্য না করে হোয়াইট হাউসের দিকে প্রশ্ন পাঠিয়েছে, যদিও সেখান থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার অবস্থান
একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে এই মোতায়েন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই নতুন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা এসেছে ঠিক একদিন পর, যখন ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে অস্বীকার করেছে ইরান, তারা বলেছে—এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
পূর্ববর্তী সামরিক পদক্ষেপ
এর আগে গত সপ্তাহে ইউএসএস বক্সার যুদ্ধজাহাজে করে হাজারো মেরিন ও নৌসেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর সঙ্গে একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজও রয়েছে। এই সামরিক প্রস্তুতিগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার উপস্থিতি বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করছে, এমনকি কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।



