ইরানে বিমান হামলার মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট নেই: চীনা প্রতিবেদন
ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা চলছে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় কোনও সংকট দেখা যায়নি। এই তথ্য উঠে এসেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিএমজির প্রতিবেদক লি চিয়াননানের একটি সরেজমিন প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার তেহরানে অবস্থানরত এই প্রতিবেদক জানান, তিনি শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার সাইরেন শুনেছেন, যা হামলার তীব্রতা নির্দেশ করে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রের বরাতে লি চিয়াননান নিশ্চিত করেন যে, ইরানের মধ্যাঞ্চলের ইস্পাহান এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোররামশাহর শহরের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাত থেকে তেহরান, কারাজ ও তাবরিজ শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইস্পাহানের গ্যাস কোম্পানির অফিস ও গ্যাস চাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং খোররামশাহরের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস পাইপলাইন লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব হামলায় বড় ধরনের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং বিদ্যুৎ বা পানির সরবরাহও বন্ধ হয়নি, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মানবিক প্রভাব
এদিকে তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি আটতলা আবাসিক ভবনের অর্ধেক অংশ বিমান হামলায় ধ্বংস হয়েছে, যা বেসামরিক জনগণের উপর হামলার প্রভাব তুলে ধরে। ইরান রেড ক্রিসেন্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় দেশজুড়ে মোট ৮২ হাজার ৪১৭টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬২ হাজার ৪৪০টি আবাসিক ভবন অন্তর্ভুক্ত। শুধু তেহরানেই ২৫ হাজার ২৮০টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা শহরের অবকাঠামোর উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে ২৮১টি হাসপাতাল, ৪৯৮টি স্কুল এবং ১৭টি রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার মধ্যেও ইরানের স্থানীয় বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা সম্ভবত সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি ব্যবস্থাপনার ফলাফল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর পুনর্নির্মাণ ও মানবিক সহায়তা প্রদান এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



