ইরানের কঠোর জবাব: যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ, আলোচনা অস্বীকার
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ করলো

ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা এবং আলোচনার দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ওয়াশিংটনকে উপহাস করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা বর্তমানে চলছে না। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি এই কঠোর মন্তব্য করেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

ট্রাম্পের দাবিকে কটাক্ষ

ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর যৌথ কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর এই মুখপাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে কটাক্ষ করে বলেন, 'আপনাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনারা নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছেন?' জোলফাগারি আরও যোগ করেন, প্রথম দিন থেকেই আমাদের কথা স্পষ্ট, আমাদের মতো কেউ আপনাদের মতো কারও সঙ্গে কখনোই সমঝোতায় আসবে না। এখন নয়, কখনও নয়। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত কৌশলগত শক্তি এখন কৌশলগত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ও ইরানের প্রত্যাখ্যান

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম জানানো হয় যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এই আলোচনার আয়োজক হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও যে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন, ইরানের সামরিক মুখপাত্রের এই কঠোর বক্তব্য তা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জোলফাগারি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, 'নিজেদের পরাজয়কে চুক্তির মোড়কে ঢাকার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের ফাঁকা বোলার যুগ শেষ হয়ে গেছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের চাপ ও কৌশল

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায় নিজ দেশে প্রচণ্ড চাপের মুখে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৫ হাজার মেরিন সেনাসহ কয়েক হাজার নৌ-সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বিষয়টিকে ট্রাম্পের 'সর্বোচ্চ নমনীয়তা' বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও চলমান সংঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। শুরু থেকেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে আসছিলেন। হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও রণক্ষেত্রে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। একদিকে ইরান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এই উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।