ইরানের পাঁচ শর্তে যুদ্ধবিরতি আলোচনা, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় আশা-আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ইরান পাঁচটি শর্ত দিয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো সোমবার জানিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ যুদ্ধ চলছে, এবং এই সংঘাত বন্ধে আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান কঠোর দাবিগুলো তুলে ধরেছে।
ইরানের শর্তগুলো কী কী?
ইরানি একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য ইরানের শর্তগুলো হলো:
- যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার শক্তিশালী নিশ্চয়তা দিতে হবে।
- পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে।
- যুদ্ধের কারণে ইরানের হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
- হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন একটি আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে, যার মাধ্যমে এ এলাকা মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- ইরানের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যম-এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দিতে অথবা তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া, মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে অতিরিক্ত আরেকটি শর্তের কথা বলা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এ অঞ্চলের সব যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, যার মধ্যে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলা লড়াইও অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার অগ্রগতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এবার তারা (ইরান) বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর অসামান্য কর্মদক্ষতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা আশা করি, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে। তবে যা–ই ঘটুক না কেন, আমরা নিশ্চিত করব যে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরানকে আরও একটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন এবং আশা করেন তারা এটি কাজে লাগাবে।
সংঘাতের পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই সংঘাত গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হয়েছে, এবং ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো ঘটনাগুলো উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইরানের শর্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমানোর দিকে ইঙ্গিত করে, বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটি বন্ধ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে।
আলোচনা চলাকালীন, ট্রাম্পের মন্তব্যে আশা ও সতর্কতা উভয়ই প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে এবং পৃথিবী আরও স্থিতিশীল হবে। তবে, ইরানের শর্তগুলো পূরণ করা কঠিন হতে পারে, যা চুক্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।



