ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরাইল ও এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ৮৮তম দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও বিস্তারিত
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল উত্তর ইসরাইলে এবং দক্ষিণ লেবাননে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলো, যা পূর্ববর্তী সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিশেষভাবে, তেল আবিব, কিরিয়াত শমোনা এবং বনেই ব্রাক শহরগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা
এছাড়াও, কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলোও এই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইরানের সামরিক অভিযানের পরিধি কতটা বিস্তৃত তা নির্দেশ করে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪' এর আওতায় হামলা
এই হামলা 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪' নামক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বলে আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে। সংস্থাটি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'আমরা অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর ৮৮তম দফা হামলা চালিয়েছি। এই অভিযান উত্তর ফিলিস্তিন ও গাজা উপত্যকায় জায়নবাদী বাহিনীর সমাবেশস্থলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার শুরু।'
কৌশলগত স্থানগুলোর উপর আঘাত
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, সাফেদ শহরের উত্তরে অবস্থিত একটি 'সামরিক কমান্ড কেন্দ্র' এবং বিভিন্ন 'কৌশলগত স্থান ও সামরিক কেন্দ্রে' সফল আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলাগুলো ইরানের প্রতিশোধমূলক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।



