মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোন ঠেকাতে যুদ্ধবিমান: ব্যয়বহুল ও অস্থায়ী সমাধান
ইরানি ড্রোন ঠেকাতে যুদ্ধবিমান: ব্যয়বহুল সমাধান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোন ঠেকাতে যুদ্ধবিমান: ব্যয়বহুল ও অস্থায়ী সমাধান

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যা একটি ব্যয়বহুল ও অস্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে এসব যুদ্ধবিমান, কিন্তু এগুলো মূলত নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া ধীরগতির ড্রোনের ঝাঁক ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্লেষক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ড্রোন প্রতিরোধে যুদ্ধবিমান এখন প্রধান হাতিয়ার, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

মশা মারতে কামান দাগানো পরিস্থিতি

ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের একেকটির দাম মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার, অথচ একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এক ঘণ্টা আকাশে ওড়াতেই খরচ হয় ২৫ হাজার ডলারের বেশি। যুদ্ধবিমান থেকে ব্যবহৃত অস্ত্রও অত্যন্ত ব্যয়বহুল; যেমন ‘এআইএম-৯এক্স সাইডউইন্ডার’ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির খরচ প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। সেন্টার ফর নেভাল অ্যানালাইসিসের গবেষক স্যামুয়েল বেন্ডেট বলেন, ‘সস্তা একটি হুমকি মোকাবিলার তুলনায় এটি স্পষ্টতই অত্যন্ত ব্যয়বহুল।’

বিকল্প পদ্ধতির অনুসন্ধান

উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ড্রোনের বিরুদ্ধে বিমানবিধ্বংসী ভারী গুলি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সস্তা। তবে এর জন্য যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি যেতে হয় এবং জনবহুল এলাকায় ঝুঁকি থাকে। ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত লেজারভিত্তিক সিস্টেম বিবেচনা করছে, যেখানে প্রতিটি ড্রোন ধ্বংসের খরচ ‘প্রায় শূন্য’। ইউক্রেনের পরামর্শেও ড্রোন প্রতিহত করতে বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একটি সাশ্রয়ী উপায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাড়ছে ঝুঁকি ও চাপ

ড্রোন প্রতিরক্ষায় যুদ্ধবিমানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কেবল আর্থিক নয়, কারিগরি চাপও সৃষ্টি করছে। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিকো বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়া বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর।’ শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের ধীর গতি যুদ্ধবিমানের পাইলটদের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক বাহিনী ড্রোন হুমকিকে কম গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আহ্বান

বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, যুদ্ধবিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অংশ হতে পারে, কিন্তু ভিত্তি নয়। ফ্লাই গ্রুপের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী আনাতোলি খ্রাপচিনস্কি বলেন, ‘শত্রু যদি শত শত সস্তা ড্রোন ছোড়ে আর আপনি সেগুলো লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করেন, তবে দীর্ঘ মেয়াদে আপনার এই মডেল কাজ করবে না।’ সিএসআইএসের গবেষক টম কারাকো যোগ করেন, ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কমানোর প্রচেষ্টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান তিন হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে, যার বেশির ভাগ উপসাগরীয় অঞ্চলে ধ্বংস করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এক হাজার ছয় শর বেশি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে, তবে কিছু ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে টেকসই ও সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা কৌশল বিকাশে জোর দিতে হবে।