মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার: ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ২৪ মার্চ ২০২৬-এর এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়েছে। ইরানে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের আলোচনা দাবি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে 'খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ' আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পর ইরান জানিয়েছে, এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু ইরান যে মার্কিন দাবি মেনে নেবে, এর সম্ভাবনা ক্ষীণ।
গতকাল সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আলোচনার বিষয়টি জানান, পরে সাংবাদিকদেরও একই কথা বলেন। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস একটি ছবি পোস্ট করেছে, যেখানে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে শিশুদের গোলাপি রঙের খেলনা স্টিয়ারিং হুইল দেখা যায়। এটি ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ধারণাকে উপহাস করার জন্য করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তার মতে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইরানে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব বাড়ছে, যা দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান হিসেবে এই এলিট ফোর্সের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের জোলকাদরের নিয়োগ থেকে স্পষ্ট। তিনি সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে দায়বদ্ধ, তবে তাঁর পূর্বসূরি আলী লারিজানির মতো ক্ষমতার নেপথ্য কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলা ও জ্বালানি সংকট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির ওপর হামলা চালায়, যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছিল, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক–পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।



