নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে এয়ার কানাডার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা: পাইলট নিহত, বিমানবন্দর বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমানবন্দরে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির পাইলট ও কো-পাইলট দুজনই নিহত হয়েছেন, যা মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গতকাল রোববার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জ্যাজ এভিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত এয়ার কানাডার সিআরজে-৯০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি ৭২ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে কানাডার মন্ট্রিয়েল থেকে আসছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’ জানিয়েছে, রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে উড়োজাহাজটি প্রায় ২৪ মাইল বেগে ফায়ার ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়, যা একটি ভয়াবহ সংঘর্ষের সৃষ্টি করে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ট্রাকটি পরিচালনা করা পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, একজন সার্জেন্ট ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার হাত-পা ভেঙে গেছে এবং তাঁরা হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। রয়টার্সের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটির সামনের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি ওপরের দিকে হেলে আছে, যা দুর্ঘটনার তীব্রতা নির্দেশ করে।
বিমানবন্দরের অবস্থা ও প্রভাব
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরটি আজ সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য ব্যাপক অসুবিধা সৃষ্টি করেছে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, ফায়ার সার্ভিসের ট্রাকটি রানওয়েতে অন্য একটি ঘটনায় জরুরি ডাকে যাওয়ার সময় ৪ নম্বর রানওয়েতে উড়োজাহাজটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
এই দুর্ঘটনার ফলে নিউইয়র্ক সিটির জরুরি বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে বিমানবন্দর এলাকায় ফ্লাইটের সময়সূচি বিপর্যয়, সড়ক বন্ধ ও যানজট তৈরি হতে পারে। উদ্ধারকাজে জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা নিয়োজিত রয়েছেন, এবং ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, এবং কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের এই দুর্ঘটনা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিমান যোগাযোগে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



