ইরান হামলার বিরোধী ৫৯% মার্কিনি: জরিপে প্রকাশ, দীর্ঘ যুদ্ধের শঙ্কা ও রাজনৈতিক বিভাজন
ইরান হামলার বিরোধী ৫৯% মার্কিনি: জরিপে প্রকাশ

ইরান হামলার বিরোধী ৫৯% মার্কিন নাগরিক: সিএনএন জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ ও শঙ্কা বিরাজ করছে। সিএনএনের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই হামলার ঘোর বিরোধী। মাত্র ৪১ শতাংশ নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। এসএসআরএস কর্তৃক পরিচালিত এই জরিপটি মার্কিন জনমনের গভীর উদ্বেগ ও রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কা ও প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয়

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৬ শতাংশ মার্কিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাত শুরু হতে যাচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি চার সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং লক্ষ্য অর্জনে তারা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

এছাড়াও, ৬২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে ট্রাম্পের উচিত কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া। স্থল সেনা পাঠানোর প্রশ্নেও মার্কিন জনগণ অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন। মাত্র ১২ শতাংশ নাগরিক ইরানে সেনা পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, বিপরীতে ৬০ শতাংশই এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক বিভাজন ও নির্বাচনী প্রভাব

জরিপে রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ এই হামলার সমর্থক হলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ। রিপাবলিকানদের ভেতরেও ‘মাগা’ সমর্থকদের সঙ্গে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। মাগা সমর্থকরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রায় শতভাগ আস্থা রাখলেও সাধারণ রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

৫ শতাংশের বেশি মার্কিনি মনে করছেন, এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনমতের এই নেতিবাচক প্রতিফলন আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পটভূমি: ২৮ ফেব্রুয়ারির যৌথ হামলা

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাই বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, এই হামলার পর থেকে মার্কিন জনমনে যে অসন্তোষ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুতর রাজনৈতিক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

মার্কিন নাগরিকদের এই মতামত শুধুমাত্র একটি সামরিক সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষই নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং বৈদেশিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত বহন করছে।