ইরানের নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের পুনরায় হামলা
ইরানের প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজে আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই হামলায় নাতানজের শহীদ আহমদী রোশান সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে এই হামলাকে 'অপরাধমূলক' বলে উল্লেখ করেছে এবং অভিযোগ করেছে যে এটি আন্তর্জাতিক আইন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি এবং অন্যান্য পারমাণবিক নিরাপত্তা বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা
এই কৌশলগত স্থাপনাটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৎকালীন স্যাটেলাইট চিত্রে বেশ কিছু ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রটি এর আগেও ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় ইসরাইলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে হামলা চালায়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে থামার লক্ষণ নেই
বর্তমানে তিন সপ্তাহে পদার্পণ করা এই যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে শনিবার সকালেও ইরান তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে নাতানজে পুনরায় হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই হামলা শুধুমাত্র একটি স্থাপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে নাতানজ কেন্দ্রটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং এর উপর বারবার হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী সংঘটিত হয়েছে এবং এটি ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে নাতানজে হামলা যুদ্ধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।



