ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে পুনরায় হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের 'অপরাধমূলক' অভিযোগ
ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে পুনরায় হামলা

ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে পুনরায় হামলা: আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের 'অপরাধমূলক হামলা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। শনিবার (২১ মার্চ) সংঘটিত এই আক্রমণটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহের পর দ্বিতীয়বারের মতো এই স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

হামলার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ছবিতে নাতাঞ্জের শহীদ আহমাদি রোশন সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় একাধিক ভবনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি ইতিমধ্যেই একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল প্রথমে এখানে বিমান হামলা চালায়, পরে যুক্তরাষ্ট্রও একই স্থাপনায় আঘাত হানে।

ইরানের দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা দাবি করেছে যে, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তিসহ (এনপিটি) বিভিন্ন নিরাপত্তা বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংস্থাটি এই ঘটনাকে একটি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘাতের চলমান অবস্থা

এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলের দাবি, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে যে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে—যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রয়েছে—মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও প্রভাব

নাতাঞ্জে পুনরায় হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উপর একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই ধরনের হামলা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে এবং অঞ্চলে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ইরান এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জোরালো প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।