ইরান ইস্যুতে পুতিনের দাবি: ইউক্রেন সহায়তা বন্ধের বিনিময়ে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া কমাবে রাশিয়া
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের মুখে ইরান কঠোর জবাব দিচ্ছে। তেহরানের আক্রমণের ধরন ও নিখুঁত টার্গেটের হার দেখে পশ্চিমা বিশ্ব চমকে গেছে। এরপর থেকেই অভিযোগ উঠছে, চীন ও রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে। ওয়াশিংটন, মস্কো ও বেইজিং বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেও এবার নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
রাশিয়ার গোপন প্রস্তাব
পলিটিকো মার্কিন-রুশ আলোচনার সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে দেওয়া ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে তাদের গোয়েন্দা সহযোগিতা কমিয়ে দেবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ইরানকে না দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত সপ্তাহে মিয়ামিতে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিভ এই ধারণা উত্থাপন করেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে দিমিত্রিভ পরবর্তীতে এক্সে একটি পোস্টে পলিটিকোর এই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বা ‘ফেক’ বলে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই তেহরান সমুচিত জবাব দিচ্ছে। দেশটির আক্রমণের ধরন ও নিঁখুত টার্গেটের হার দেখে রীতিমতো চমকে গেছে পশ্চিমা বিশ্ব। এরপরই তারা অভিযোগ করতে থাকে যে, ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে চীন ও রাশিয়া। বিষয়টি নিয়ে সবসময়ই মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে ওয়াশিংটন, মস্কো ও বেইজিং। তবে এবার জানা গেলো রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন দাবার চাল দিতে চান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউক্রেন সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একসঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই কৌশলগত চাল ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রচেষ্টা।
প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের পর রুশ দূতের বক্তব্য প্রতিবেদনটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের গোপন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে সাধারণ ঘটনা। ইরান ইস্যুতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ইরানকে না দেওয়ার প্রস্তাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাশিয়া ইরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিচ্ছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আরও জটিল হতে পারে। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে আরও কূটনৈতিক আলোচনা ও চাপের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।



